রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া: দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের শিল্পের সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর-১ ব্লকের নূতনডি অঞ্চল। আগামী ১৭ আগস্ট, সোমবার, দুরমুট গ্রামে অমিত মেটালিক্স শিল্প প্রকল্পের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে এই শিল্প উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় দুই দশক আগের এক অপূর্ণ শিল্পস্বপ্নের স্মৃতিও।স্থানীয়দের দাবি, ২০০৭ সালের ১৭ অক্টোবর, দুর্গাপঞ্চমীর দিন, তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দুরমুট এলাকায় এসেছিলেন জয় বালাজী শিল্পগোষ্ঠীর বৃহৎ ইস্পাত, সিমেন্ট ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সমঝোতা চুক্তি (MOU)-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার সূচনাকে ঘিরে। সেই সময় এলাকায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!স্থানীয়দের একাংশের মতে, পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও ইস্পাত বাজারে ধস, বিনিয়োগ ও অর্থসংস্থানের সমস্যা, কয়লা ব্লক সংক্রান্ত জটিলতা, জমি নিয়ে বিরোধ, আইনি সমস্যা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন—সহ একাধিক কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে বাধা তৈরি হয়।
শিল্পের আশায় সেই সময় এলাকার বহু জমিদাতা পরিবার স্বেচ্ছায় জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। অন্যদিকে, অনিচ্ছুক কিছু চাষির জমিও সরকারি উদ্যোগে অধিগ্রহণ করা হয়। জমি দেওয়ার বিনিময়ে কর্মসংস্থান, পুনর্বাসন, শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে।
কিন্তু শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ পরবর্তীকালে বিভিন্ন চিটফান্ড সংস্থায় চলে যায়। তাঁদের বক্তব্য, সেই সময় সরকারি ও প্রশাসনিক স্তর থেকে জমিদাতা ও সাধারণ মানুষকে ক্ষতিপূরণের অর্থ সুরক্ষিতভাবে রাখার বিষয়ে আরও সচেতন করা হলে বহু পরিবার আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারত।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এবার শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু কারখানা তৈরি নয়, তার সুফল সরাসরি পৌঁছবে স্থানীয় মানুষের কাছেও।
তাঁদের দাবি, ভারী শিল্প গড়ে উঠলে এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর পরিবর্তন হতে পারে। একইসঙ্গে উন্নত স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্থানীয় মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পুকুরের ঘাট সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগারের উন্নয়ন এবং ব্যাপক সবুজায়নের মতো সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য শিল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্থানীয় জমিদাতা পরিবার ও এলাকার যুবসমাজের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
শিল্পের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, শিল্পের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অবশিষ্ট কৃষিজমি ও পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১৯ বছর আগে যে শিল্পস্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গিয়েছিল, এবার সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেয়—সেদিকেই তাকিয়ে রঘুনাথপুর-১ ব্লকের নূতনডি অঞ্চল ও দুরমুট গ্রামের মানুষ।
আগামী ১৭ আগস্টের শিল্পের শিলান্যাস তাই শুধু একটি প্রকল্পের সূচনা নয়, স্থানীয় মানুষের কাছে এটি কর্মসংস্থান, উন্নয়ন, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের নতুন সম্ভাবনার সূচনা বলেই মনে করছেন অনেকে।
এখন দেখার, নতুন শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে জমিদাতা পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর প্রত্যাশা কতটা বাস্তব রূপ পায়।


শিল্পের জন্যে জমি দিয়েছি শিল্প হোক l শিল্প হলে বেকারত্ব দূর হবে l মানুষের হাতে কাচা টাকা আসবে l এলাকা উন্নয়ন হবে l
আমাদের পুরুলিয়া জেলার ছেলেদের কাজের জন্যে অন্য রাজ্যে যেতে হবে না l