বাঁকুড়া : মিড-ডে মিল এবং স্কুলের উন্নয়ন তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। সেই অভিযোগে স্কুলের প্রধানশিক্ষককে বাইরে বার করে এনে ডিম ও গোবর দিয়ে ‘শাস্তি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠল অভিভাবক, প্রাক্তনী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে বাঁকুড়ার বাঁকি সেন্দড়া হাই স্কুলের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগ, স্কুলের মিড-ডে মিলের টাকা এবং উন্নয়ন তহবিলের অর্থ তছরুপ করেছেন প্রধানশিক্ষক সাধনচন্দ্র পাল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এ নিয়ে আগেও স্কুলে বিক্ষোভ হয়েছিল। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি।
সোমবার স্কুলে প্রধানশিক্ষক ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান কয়েক জন প্রাক্তনী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দা। অভিযোগ, তাঁকে স্কুলের বাইরে বার করে এনে বৃষ্টির মধ্যে স্কুলগেটের সামনে একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়। এরপর স্লোগান দিতে দিতে তাঁর মাথায় ও শরীরে কাঁচা ডিম ছোড়া হয়। পরে তাঁর মাথায় গোবর ঢেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
ঘটনার খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ স্কুলে পৌঁছয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বিতণ্ডা শুরু হয়।
স্কুলের এক প্রাক্তনী দীপক সিংহের অভিযোগ, প্রধানশিক্ষক মিড-ডে মিল থেকে শুরু করে স্কুলের উন্নয়ন খাত পর্যন্ত প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাঁর দাবি, টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা পূরণ করা হয়নি। সেই কারণেই প্রাক্তনী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধানশিক্ষক সাধনচন্দ্র পাল। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে তদন্ত হয়েছিল এবং সেই তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দ্বিতীয় বার তদন্ত হলেও সেই রিপোর্ট এখনও তাঁর হাতে আসেনি বলে জানান তিনি।
প্রধানশিক্ষকের আরও অভিযোগ, স্কুলের কয়েক জন শিক্ষক ও স্থানীয়দের মদতে তাঁর কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই তাঁকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।


মতামত