সংবাদদাতা, রানাঘাট: যে দু’টি হাতে এত দিন শক্ত করে ধরা থাকত অ্যাম্বুলেন্সের স্টিয়ারিং, সেই হাতই এবার তৈরি করবে মহাকাশে পৌঁছনোর রকেট। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, সংসারের খরচ এবং নিজের পড়াশোনা—সবই সামলেছেন অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে। একের পর এক ব্যর্থতা এলেও হার মানেননি গাংনাপুরের যুবক দেবজিৎ ভদ্র। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে দেশের শীর্ষ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর দরজা খুলে গেল তাঁর সামনে।সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার, শ্রীহরিকোটায় টেকনিশিয়ান পদে যোগ দিতে চলেছেন দেবজিৎ। গাংনাপুরের সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া এই যুবকের স্বপ্ন অবশ্য বরাবরই ছিল আকাশছোঁয়া।দেবজিতের বাবা কাঠের কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। মা শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়িকা। এমন আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০১৩-১৫ শিক্ষাবর্ষে কলকাতার টালিগঞ্জ আইটিআই থেকে জেনারেল ফিটারে ডিপ্লোমা সম্পূর্ণ করেন তিনি।তবে পড়াশোনা শেষ করার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সংসারের রোজগার। শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজে যোগ দেন দেবজিৎ। প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স চালানোর পাশাপাশি সময় বের করে পড়াশোনা চালিয়ে যান।চন্দ্রযান অভিযানের সাফল্য তাঁকে মহাকাশ গবেষণার প্রতি আরও গভীর ভাবে আগ্রহী করে তোলে। কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই ইউটিউবের শিক্ষামূলক ভিডিও এবং একটি কোচিংয়ের সাহায্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন তিনি।দেবজিৎ জানান, ইসরোর কঠিন নিয়োগ পরীক্ষায় এক-দু’বার নয়, পরপর ছ’বার ব্যর্থ হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু প্রতিবার ব্যর্থতার পরেও নতুন করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর জেদ, পরিশ্রম এবং দীর্ঘ লড়াই সাফল্য এনে দিয়েছে। হাতে এসেছে ইসরোয় টেকনিশিয়ান পদে নিয়োগের চিঠি।দেবজিতের সাফল্যে আনন্দে ভাসছে তাঁর পরিবার। পরিবারের সদস্যদের কথায়, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন তিনি। দুষ্টুমি করলেও পড়াশোনায় কখনও পিছিয়ে ছিলেন না। তাঁর চাকরি পাওয়ার আশা পরিবারের ছিলই, তবে ইসরোয় সুযোগ পাওয়ার আনন্দ তাঁদের কাছে একেবারেই আলাদা।দেবজিতের স্ত্রীও জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তিনি সবসময় স্বামীর পাশে থেকেছেন এবং তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন। স্বামীর সাফল্যে আজ তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত।অভাবকে সঙ্গী করেও স্বপ্ন দেখা, বার বার ব্যর্থ হয়েও হাল না ছাড়া—দেবজিৎ ভদ্রের এই লড়াই এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে সংসার, লড়াই করে ইসরোয় চাকরি! দেবজিতের সাফল্যের কাহিনি

The minimum qualification for a “Technician B” post at ISRO is an SSLC/SSC (Matriculation/10th) pass combined with an ITI, NTC, or NAC certificate in the specified trade from a recognized National Council for Vocational Training (NCVT) institution.