রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর পুরসভার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত ৩ জুলাই মহকুমা প্রশাসনের কাছে লাল ও নীল রঙের দু’টি ফাইল জমা দিয়েছিল বিজেপির শহর নেতৃত্ব। অভিযোগ, প্রায় ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও কোনও তদন্ত শুরু হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশাসনের তরফে বিজেপি নেতৃত্বকে কোনও তথ্য জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।বিজেপির একাংশের দাবি, পুরসভার বিরুদ্ধে জমা দেওয়া অভিযোগের ফাইল কার্যত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও এ বিষয়ে মহকুমা প্রশাসনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।বিজেপির অভিযোগ, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রঘুনাথপুর পুরসভার বিভিন্ন প্রকল্পে মোট ৮ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছে। শৌচাগার, আবাস যোজনা, রাস্তাঘাট, পথবাতি, পুকুর খনন এবং পুরসভার বিভিন্ন সামগ্রী কেনার মতো একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র মহকুমা শাসকের দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।বিজেপির অভিযোগ, ২০১৬ সালে শহরের বাসিন্দাদের কাছ থেকে আবর্জনা রাখার বালতি দেওয়ার নাম করে আধার কার্ড নেওয়া হয়েছিল। সেই নথি ব্যবহার করে বহু মানুষের নামে শৌচাগার অনুমোদন করা হলেও বাস্তবে তাঁরা শৌচাগার পাননি। ওই প্রকল্পে প্রায় চার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।এ ছাড়াও শহরে পথবাতি লাগানোর ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি, ২৫ টাকার একটি লাইটের দাম বিলে ১০০ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। আবাস যোজনাতেও তৃণমূলের কাউন্সিলরদের আত্মীয় ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি বরাদ্দের অভিযোগ করা হয়েছে।পুরসভার বিভিন্ন সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি বিজেপির। অভিযোগ, নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে সামগ্রী কেনার নিয়ম থাকলেও পুরসভা নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশনের বিনিময়ে সামগ্রী কিনেছে।বারিক বাঁধ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ৭৬ লক্ষ টাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। তাদের দাবি, সেখানে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা মাটি কাটার কাজে খরচ দেখানো হলেও সেই মাটি কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তার হিসাব স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি আবাস যোজনার ৪৬ লক্ষ টাকা তোলার পরেও সাধারণ মানুষ বাড়ি না পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যায় না বলে দাবি করে বিজেপির অভিযোগ, রঘুনাথপুর পুরসভা প্রকল্পের চরিত্র বদল করে সেই টাকা অন্য কাজে ব্যবহার করেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক জেলা স্তরের নেতা বলেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর রঘুনাথপুর পুরসভার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই সংক্রান্ত নথি প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হলেও বর্তমানে ফাইলগুলি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তাঁর অভিযোগ।বিজেপির রঘুনাথপুর শহর সভাপতি শান্তনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগ সংক্রান্ত ফাইল জমা দেওয়ার পরেও এখনও তদন্ত হয়নি। তদন্তের বিষয়ে জানতে একাধিক বার মহকুমা শাসকের দফতরে গেলেও কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে তাঁর দাবি।অন্য দিকে, রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানান, বর্তমান বোর্ডে যে কোনও কাজ বোর্ড অব কাউন্সিলের বৈঠকের পর করা হয়। আগেও একই নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে। প্রতিটি কাজই সরকারি নিয়ম মেনে করা হয় বলে দাবি তাঁর।অভিযোগগুলির বিষয়ে মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!রঘুনাথপুর পুরসভার বিরুদ্ধে ৮ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ, ৫০ দিন পরেও তদন্ত না হওয়ায় সরব বিজেপি

মতামত