নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মিলছে না পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন পর্যটকের। গত বুধবার নেপালের বিভিন্ন এলাকায় হড়পা বানের ঘটনায় বেশ কিছু মানুষ নিখোঁজ এবং হতাহত হয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাজ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রাজ্য সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, নেপালে নিখোঁজ ৩২ জনের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি কলকাতা পুলিশের আওতাভুক্ত এলাকায় এবং বাকি ২৭ জনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের অন্তর্গত থানা এলাকায়। এক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু বাকি ৩২ জনের কোনো খোঁজ মিলছে না।
রাজ্য সরকার নেপালের ঘটনায় নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারকে সাহায্য করার জন্য ভবানী ভবনে এবং মুখ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে কন্ট্রোল রুম খুলেছে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও) এবং নেপালে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি বলেছেন, নেপাল একটি বন্ধু-দেশ এবং ভারত তাদের সাহায্য করছে। রাজ্য সরকারও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে অনেকেই গত ২১ অগস্ট কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবর ঘুরতে গিয়েছিলেন। পর্যটন সংস্থার পক্ষ থেকে চার জন প্রতিনিধি নেপালে পাঠানো হয়েছে। তারা সেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মিলে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে কিছু জনের স্বামী, সন্তানকে রেখে একাই গিয়েছিলেন এবং কিছু দম্পতি শোক ভুলতে ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন।
কলকাতায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌখালিতে মিতালি মিত্র গত বুধবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে শেষ বার তাঁর স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। সে সময় তিনি হোটেল থেকে চেকআউট করেছিলেন এবং সীমান্তে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ মিলছে না। দুর্গাপুরের বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র বসু মঙ্গলবার রাতে শেষ বার তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং বুধবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন যে, তিনি সীমান্তের দিকে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা শিপ্রা রায় পাটারী গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তাঁর ভাই জানিয়েছেন যে, তাঁরা অনুমান করছেন যে, শিপ্রা রায় পাটারী চিনা সীমান্তে অনুমতি আদায়ের জন্য বাসে চেপে গিয়েছিলেন। উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী পানপাড়া বাই লেনের বাসিন্দা ক্ষিতীশ বিশ্বাস এবং তাঁর স্ত্রী মমতা বিশ্বাসও গত ২১ অগস্ট কৈলাস মানস সরোবর ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাঁদেরও কোনো খোঁজ মিলছে না।
পূর্ব বর্ধমানে ইন্দপুরের বাসিন্দা অশোক পাল নেপালের রুশাইয়ে জলস্রোতে সেতু ভেঙে পড়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি নেপালের এক বিদ্যুৎ প্রকল্পে গত ১০ বছর ধরে সুপারভাইজ়ার হিসাবে কাজ করেন। গত বুধবার সকাল ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর সঙ্গে তাঁর বোনের কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ মিলছে না। অশোক পালের স্ত্রী ও দু’বছরের শিশুপুত্র বীরভূমের মল্লারপুরে থাকেন। অশোক পাল পরিবারের একমাত্র রোজগেরে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের হিজলির প্রেমবাজার এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছরের স্বপনকুমার সিংহ গত মঙ্গলবার রাতে শেষবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে কৈলাস মানস সরোবর ঘুরতে একাই গিয়েছিলেন। স্বপনকুমার সিংহের পরিবার ভারতীয় দূতাবাস এবং ভবানী ভবন কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করেছেন কিন্তু এখনও কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পুরুলিয়া শহরের কুকস কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায় দুর্গাপুরে থাকতেন। তাঁরাও নেপাল ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের কাকিমা ভারতী গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, তাঁদের জন্য খুবই চিন্তা হচ্ছে।


মতামত