পুরুলিয়া: অভাব-অনটনকে হার মানিয়ে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-এ সাফল্য অর্জন করলেন পুরুলিয়ার জিশান হোসেন। রিকশা ও টোটো চালিয়ে সংসার চালানো বাবার কষ্টার্জিত উপার্জনে পড়াশোনা করে তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত পরিবার থেকে শুরু করে গোটা এলাকা।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!পুরুলিয়া শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত রানিবাঁধ এলাকার বাসিন্দা জিশান হোসেন। পুরুলিয়া এজিপিএন কনভেন্ট স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে NEET-এর প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। তবে তাঁর এই পথ মোটেই সহজ ছিল না।
জিশানের বাবা দীর্ঘদিন রিকশা চালিয়েছেন। পরবর্তীতে টোটো চালিয়ে সংসারের হাল ধরেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখতে চাননি তিনি। ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করে তাঁকে বাইরে পাঠিয়ে NEET-এর প্রস্তুতির ব্যবস্থা করেন। বাবার সেই ত্যাগ ও পরিশ্রমকে সাফল্যের মাধ্যমে সম্মান জানালেন জিশান।
NEET-এ জিশানের সাফল্যের খবর এলাকায় পৌঁছতেই শুরু হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। এলাকার বাসিন্দারা তাঁর সাফল্যকে নিজেদের গর্ব বলে মনে করেন। জিশানকে উৎসাহিত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। গলায় মালা পরিয়ে, ফুলের তোড়া দিয়ে এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী শামীম খান ও আব্দুল রাকিব বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জিশান যেভাবে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর এই সাফল্য এলাকার অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে পড়াশোনা শেষ করে একজন আদর্শ চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াক জিশান—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে জিশান বলেন, তাঁর লক্ষ্য একজন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হওয়া। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে চান তিনি।
অভাবকে বাধা না বানিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের ত্যাগকে সঙ্গে নিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন জিশান। তাঁর এই সাফল্য শুধু পরিবারের মুখেই হাসি ফোটায়নি, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে গোটা পুরুলিয়াকেও।


মতামত