Tuesday, 27 October 2026 · বাংলা সংবাদBBARTA স্টাফ ডেস্ক ↗

আপনার এলাকার খবর, আপনার কণ্ঠে। খবর পাঠান, নির্বাচিত রিওয়ার্ড পান।

আপনিই রিপোর্টার ↗
স্থানীয় সংবাদ

মোবাইল নিয়ে বকাঝকা, অভিমানে বাড়ি ছাড়ল পাঁচ নাবালিকা! টোটোচালকের তৎপরতায় উদ্ধার

কোচবিহার: মোবাইল ফোনে আসক্তি নিয়ে বাবা-মায়ের বকাঝকা। সেই অভিমানে একসঙ্গে বাড়ি থেকে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পাঁচ বান্ধবী। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তারা চলে যায় কোচবিহার শহরে। দিনভর ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যায় নিউ কোচবিহার স্টেশনে যাওয়ার জন্য টোটোয় ওঠে তারা। কিন্তু পাঁচ নাবালিকার কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় টোটোচালকের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত তাদের কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরিবারের হাতে পাঁচ কিশোরীকে তুলে দেয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জানা গিয়েছে, পাঁচ জনই সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। তারা শীতলকুচির ছোট শালবাড়ি এলাকার বড় গদাইখোড়া ভিএম হাই স্কুলে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের আসক্তি ছিল। সব সময় মোবাইল ঘাঁটা নিয়ে বাড়িতে বকাঝকা ও অশান্তি হত। সেই অভিমানে পাঁচ বান্ধবী বাড়ি থেকে পালানোর পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুলে যাওয়ার কথা বলে পাঁচ জনই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু কেউই স্কুলে যায়নি। শীতলকুচি থেকে তারা চলে যায় কোচবিহার শহরে। দিনভর শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যার পর টোটো ভাড়া করে নিউ কোচবিহার স্টেশনের দিকে রওনা দেয়।

তবে কোথায় রাত কাটাবে, তা নিয়ে সমস্যায় পড়ে পাঁচ কিশোরী। শেষ পর্যন্ত টোটোচালককে একটি ভাড়াবাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে তারা। পাঁচ নাবালিকার এমন কথাবার্তায় সন্দেহ হয় টোটোচালকের। যদিও তিনি তখন তাদের কিছু বলেননি। ভাড়াবাড়ির ব্যবস্থা করে দেবেন বলে তাদের নিয়ে আসেন কোচবিহার রাজবাড়ির সামনে।

সেখানে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশের কাছে পুরো বিষয়টি জানান ওই টোটোচালক। ট্র্যাফিক পুলিশের পরামর্শে পাঁচ নাবালিকাকে নিয়ে কোতোয়ালি থানায় যান তিনি।

থানায় পুলিশ আধিকারিকেরা পাঁচ স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। বাড়ি থেকে এ ভাবে বেরিয়ে এলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে, তা তাদের বোঝানো হয়। পুলিশের কথায় নিজেদের ভুল বুঝতে পারে পাঁচ কিশোরী। এরপর কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা।

পুলিশ পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে পরিবারের লোকজন থানায় এসে পাঁচ কিশোরীকে বাড়িতে নিয়ে যান।

পরিবারের সদস্যেরা জানান, পাঁচ জনই বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়েছিল। কেউ বাবার ফোন, আবার কেউ মায়ের ফোন নিয়ে বেরিয়েছিল।

এক নাবালিকার মা বলেন, ‘‘এক জায়গায় ফোন করব বলে বাড়িতে মোবাইল খোঁজাখুঁজি করছিলাম। খুঁজে পাচ্ছিলাম না। নিজের নম্বরে ফোন করে দেখলাম মোবাইলটি সুইচড অফ। স্কুল থেকে মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় পুলিশের কাছেও গিয়েছিলাম। পরে পুলিশের তরফে জানানো হয়, কোচবিহারে তাদের পাওয়া গিয়েছে।’’

আর এক কিশোরীর আত্মীয় বলেন, পাঁচ বান্ধবী একসঙ্গে এমন কাণ্ড ঘটাবে, তা তাঁরা ভাবতেই পারেননি।

টোটোচালক আব্দুল আলি বলেন, ‘‘রাজবাড়ি থেকেই আমার টোটোয় উঠে স্টেশনে নিয়ে যেতে বলে ওরা। প্রথম দিকে সব কিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু কিছু ক্ষণ পর ওদের কথাবার্তা শুনে সন্দেহ হয়। পরে যখন আমাকে বাড়িভাড়া করে দিতে বলে, তখন বুঝতে পারি পাঁচ জনই বাড়িতে কিছু না বলেই বেরিয়ে এসেছে।’’

টোটোচালকের তৎপরতা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই পরিবারের কাছে ফিরল পাঁচ নাবালিকা।

এই খবরে সংশোধন জানান

মতামত

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *