সৌমেন সূত্রধর, রঘুনাথপুর: এককালে পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর শহরের অন্যতম প্রধান পরিচিতি ও গৌরব ছিল ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তসর শিল্প। রঘুনাথপুরে তৈরি খাঁটি তসরের খ্যাতি জেলার সীমানা ছাড়িয়ে রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একসময় সমাদৃত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রচালিত পাওয়ারলুমের সস্তা কাপড়ের আগ্রাসন, কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম এবং তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে সেই বিখ্যাত শিল্প আজ প্রায় বিলুপ্তির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!তবুও চরম সংকটের মধ্যেও শহরের কিছু অলিগলিতে আজও মাঝে মাঝে দেখা মেলে সেই পুরোনো ঐতিহ্যের। যে পেশাকে সম্বল করে পূর্বপুরুষদের জীবন কেটেছে, সেই পৈতৃক কাজের মায়া কাটাতে পারেননি এলাকার কয়েকজন প্রবীণ কারিগর। বয়স শরীরে ছাপ ফেললেও এই পেশার প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও আত্মিক টান আজও অমলিন।
তাই দিনরাত এক করে মাটিতে বসে পুরোনো কাঠের চড়কায় সুতো কাটা কিংবা টানা তাঁতে কাপড় বোনা—সবই আজও পরম যত্নে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এই কাজ থেকে সংসারের ন্যূনতম খরচটুকুও অনেক সময় উঠে আসে না। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা এবং কাজের প্রতি অগাধ ভালোবাসার টানেই তাঁরা আজও এই পেশা আঁকড়ে ধরে রয়েছেন।

অন্যদিকে, ন্যায্য মজুরি ও সঠিক বিপণনের অভাবে নতুন প্রজন্ম এই কষ্টসাধ্য পেশা থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে প্রবীণ এই কারিগরদের পর রঘুনাথপুরের গর্বের এই হস্তশিল্প আদৌ টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি স্তরে কাঁচামাল সরবরাহে যথাযথ ভর্তুকি এবং উৎপাদিত তসর সামগ্রী সরাসরি বিক্রির জন্য স্থায়ী বাজারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তা না হলে প্রবীণ শিল্পীদের সঙ্গেই পুরুলিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প একদিন চিরতরে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে পারে।



মতামত