BBARTA নিউজ ডেস্ক | কলকাতা | ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার : উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল আতঙ্কে। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার জনপ্রিয় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল সূত্র উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যমে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু দর্শনার্থী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে। তবে মৃত ও আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।কীভাবে ঘটল ভয়াবহ দুর্ঘটনা?প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করেছিলেন। মণ্ডপে প্রবেশের অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বহু দর্শনার্থী। সন্ধ্যার দিকে আচমকা প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অপেক্ষারত দর্শনার্থীদের একাংশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই সময় ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। অনেকে ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। পিছন থেকে আসা মানুষের চাপে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, পুজোমণ্ডপের কাঠামোর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও আতঙ্ক বাড়িয়ে থাকতে পারে। তবে মণ্ডপের কোনও অংশ ভেঙে পড়েছিল কি না এবং সেটিই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।হাসপাতাল সূত্রে ১৭ জনের মৃত্যুর খবরদুর্ঘটনার পর আহত ও অসুস্থ দর্শনার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকেই শ্বাসকষ্ট, আঘাত এবং সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।এবিপি আনন্দের প্রতিবেদনে হাসপাতাল সূত্র উদ্ধৃত করে ১৭ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনার খবর জানানো হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ এবং হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাতেও সেই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে অন্তত ২৫ জনকে হাসপাতালে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত বলা হচ্ছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনিকভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সংখ্যাকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় আতঙ্কের ছবিঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি। সংবাদমাধ্যমকে একাধিক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, প্রবল ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ মানুষ ছুটতে শুরু করলে অনেকে মাটিতে পড়ে যান। কেউ সংজ্ঞা হারান, কেউ আবার ধাক্কাধাক্কিতে আহত হন।কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্থানীয় মানুষও এগিয়ে আসেন। অ্যাম্বুল্যান্সের অপেক্ষা না করে কয়েকজনকে মোটরবাইকে করেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দর্শনার্থীদের একাংশ।ভিআইপি প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নদুর্ঘটনার পর পুজোমণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। অন্যদিকে, ভিআইপি দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থায় তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।যদিও এই অভিযোগগুলির সবকটি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এত বড় পুজোয় দর্শনার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশি নজরদারি, জরুরি বহির্গমনপথ এবং চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।ঘটনাস্থলে পুলিশ, বন্ধ রাখা হল মণ্ডপে প্রবেশদুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা। উদ্ধারকাজে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা অংশ নেন বলে জানা গিয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আশপাশের রাস্তায় ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়। একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল।ভিড় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নতুন করে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কি না, তা নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা।হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীদুর্ঘটনার খবর পেয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।পুজোর উদ্যোক্তাদের থানায় ডেকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে কমিটির কাউকে আটক বা গ্রেফতারের বিষয়ে এখনও নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।কী বলছেন পুজোর উদ্যোক্তারা?চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা বিকাশ দাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। আপাতত আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই তাঁদের অগ্রাধিকার।তবে এই ঘটনার পর পুজো আয়োজনে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, প্রবেশপথের পরিকল্পনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানাদুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। অতিরিক্ত ভিড়ের সম্ভাবনা আগে থেকে অনুমান করা হয়েছিল কি না, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ পর্যাপ্ত প্রশস্ত ছিল কি না, বৃষ্টির সময় দর্শনার্থীদের নিরাপদে সরানোর পরিকল্পনা ছিল কি না এবং বিপদের মুহূর্তে উদ্ধারকাজ শুরু করতে কতটা সময় লেগেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশিত হলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।উৎসবের আনন্দে গভীর উদ্বেগপ্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গাপুজোয় কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপে বিপুল জনসমাগম হচ্ছে। চোরবাগানের এই দুর্ঘটনা সেই আনন্দের মাঝেই বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।দুর্গাপুজোর মতো বৃহৎ উৎসবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও আয়োজকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি বহির্গমনের সুব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।চোরবাগানের ঘটনায় ঠিক কোথায় গাফিলতি ছিল, আদৌ কোনও নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এখন সেদিকেই নজর সকলের।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল সূত্রে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এলে হতাহতের সংখ্যা ও অন্যান্য বিবরণ পরিবর্তিত হতে পারে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু ,আশঙ্কা জনক অনেকে, চোরবাগান সার্বজনীন ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা!

মতামত