Tuesday, 27 October 2026 · বাংলা সংবাদBBARTA স্টাফ ডেস্ক ↗

আপনার এলাকার খবর, আপনার কণ্ঠে। খবর পাঠান, নির্বাচিত রিওয়ার্ড পান।

আপনিই রিপোর্টার ↗
স্থানীয় সংবাদ

নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বসিরহাটের পোদ্দার দম্পতি

বসিরহাটের প্রৌঢ় দম্পতি অনুকূল পোদ্দার ও তাঁর স্ত্রী রেবা নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরলেন। বাসচালকের উপস্থিত বুদ্ধি এবং সময়মতো সিদ্ধান্তের জেরেই তাঁদের প্রাণ রক্ষা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিব্বত সীমান্তের কেরুং অভিবাসনকেন্দ্রের দিকে যাওয়ার পথে স্যাপ্রুবেসী থেকেই বাস ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে নিয়ে যান চালক।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বসিরহাটের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অনুকূল পোদ্দার এবং তাঁর স্ত্রী রেবা গত ২১ অগস্ট কলকাতা থেকে কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। নেপাল হয়ে তাঁদের যাওয়ার কথা ছিল তিব্বত সীমান্তের কেরুং অভিবাসনকেন্দ্র দিয়ে। কিন্তু যাত্রাপথেই ঘটে ভয়াবহ বিপর্যয়।

‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে অনুকূল জানিয়েছেন, গত বুধবার সকালে কেরুংয়ের দিকে যাওয়ার সময় আচমকা বাস থামিয়ে দেন চালক। হড়পা বান আসছে বলে তিনি জানান এবং আর এগোতে অস্বীকার করেন। এরপর স্যাপ্রুবেসী থেকেই বাস ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। অনুকূলের কথায়, বাসটি যে জায়গায় দাঁড়িয়েছিল, কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রবল বানের তোড়ে সেই এলাকা ভেসে যায়।

ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনুকূল বলেন, তাঁরা গিরিখাত বেয়ে মেঘের মতো কিছু ধেয়ে আসতে দেখছিলেন এবং শুধু প্রবল গর্জনের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। স্থানীয় মানুষজনও আতঙ্কে উপরের দিকে ছুটছিলেন। কেউ চিৎকার করছিলেন, কেউ কাঁদছিলেন। কেরুং অভিবাসনকেন্দ্রে তখন কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না।

শুক্রবারই জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে পোদ্দার দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার জানা যায়, তাঁরা ইতিমধ্যেই নেপাল থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।

শনিবার নেপালের বিরাটনগর থেকে বিহারের রক্সৌলে পৌঁছন তাঁরা। সেখান থেকে মিথিলা এক্সপ্রেসে চেপে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রবিবার ভোরে তাঁদের হাওড়ায় পৌঁছনোর কথা। তাঁদের সঙ্গে আরও ১০ জন ফিরছেন। তাঁদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ সংস্থার দুই কর্মীও রয়েছেন। ওই সংস্থার আরও পাঁচ জন ইতিমধ্যেই বিমানে রাজ্যে ফিরে এসেছেন।

পোদ্দার দম্পতির প্রতিবেশী দিলীপকুমার দত্তের সঙ্গেও তাঁদের ফোনে কথা হয়েছে। তিনি জানান, পাসপোর্ট অফিসে প্রায় ১৫ মিনিট দেরি হওয়ায় অনুকূল ও রেবা নির্ধারিত গাড়িটি ধরতে পারেননি। আর সেই সামান্য দেরিই শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়ে দেয়।

তবে একই যাত্রায় বসিরহাট থেকে যাওয়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা অন্য একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে গিয়েছিলেন। অনুকূল জানিয়েছেন, মণ্ডল দম্পতি নির্ধারিত সময়েই কেরুং অভিবাসনকেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে ছবি তুলে তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে বাসচালকের সময়োচিত সিদ্ধান্তে প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনুকূল ও রেবার নিরাপদে দেশে ফেরার খবর স্বস্তি দিয়েছে তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের।

এই খবরে সংশোধন জানান

মতামত

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *