সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর:রঘুনাথপুর-১ : নম্বর ব্লকের বেড়ো চণ্ডী পাহাড়ে পাথর কাটা বন্ধের দাবিতে পথে নামলেন এলাকার বাসিন্দারা। ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী এই পাহাড় কোনওভাবেই ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না—এই দাবিতে রবিবার বেড়ো এলাকায় মিছিল করেন স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে।এদিন পুরাতন বেড়ো এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এলাকার বিভিন্ন পাড়া পরিক্রমা করে পঞ্চায়েত সংলগ্ন লাড়ুবাড়ি এলাকায় গিয়ে মিছিল শেষ হয়। মিছিলে প্রায় দুই শতাধিক পুরুষ ও মহিলা অংশগ্রহণ করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেড়োর চণ্ডী পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্য ও পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড়কে কেন্দ্র করে একাধিক বাংলা সিনেমা ও সিরিয়ালের শুটিং হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও এলাকাটির পরিচিতি রয়েছে। ট্রেকিংয়ের জন্যও চণ্ডী পাহাড়ের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের সময়ে রাজ্য শিল্প নিগমের তত্ত্বাবধানে একটি সংস্থাকে পাহাড় কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই সংস্থা পাহাড় কেটে গ্রানাইট ও ব্ল্যাক স্টোন উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।পাহাড় রক্ষার দাবিতে এর আগেও আন্দোলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সেই সময় বিভিন্নভাবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্দোলনকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ফের চণ্ডী পাহাড় রক্ষার দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।মিছিলে অংশ নিয়ে সুমন্ত বাউরি বলেন, “পুঁজিপতি কিছু বাইরের কোম্পানি পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী পাহাড় ধ্বংস করতে নেমেছে। বেড়োর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী পাহাড়কে কোনওভাবেই ধ্বংস করতে দেওয়া যাবে না। পাহাড় বাঁচাতে আন্দোলন চলছে। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন হবে।”তিনি আরও বলেন, পাহাড় প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই প্রাকৃতিক সম্পদকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে দেওয়া উচিত। আইন মেনে পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও, মানুষের স্বার্থে সেই আইন। যেখানে মানুষ পাহাড় বাঁচানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে, সেখানে পাহাড় ধ্বংস করা হবে কেন—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!চণ্ডী পাহাড় বাঁচাতে পথে বেড়োর মানুষ, পাথর কাটা বন্ধের দাবি

মতামত