Tuesday, 27 October 2026 · বাংলা সংবাদBBARTA স্টাফ ডেস্ক ↗

আপনার এলাকার খবর, আপনার কণ্ঠে। খবর পাঠান, নির্বাচিত রিওয়ার্ড পান।

আপনিই রিপোর্টার ↗
স্থানীয় সংবাদ

থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসায় বড় উদ্যোগ, শান্তিনিকেতন

বীরভূম: থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসায় বড় উদ্যোগ নিল শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। হাসপাতালের উদ্যোগে এবং কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি রিসার্চ সেন্টারের সহযোগিতায় এবার থেকে প্রতি মাসে একদিন করে থ্যালাসেমিয়া ও হেমাটোলজি নিয়ে বিশেষ ক্লিনিক চালু হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই বিষয়ে মৌ (MoU) চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এই বিশেষ ক্লিনিকে দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকেরা এসে শিশু ও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দেবেন। শুধু থ্যালাসেমিয়া নয়, হেমাটোলজি, অঙ্কোলজি, কিডনি ও হৃদ্‌রোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞ পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডিরেক্টর এবং বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক (ডাঃ) অশোক কুমার দত্ত জানান, “সব কিছুই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি রিসার্চ সেন্টারের চিকিৎসকেরা এখানে মাসে একদিন করে আসবেন। বিশেষ ক্লিনিকে থ্যালাসেমিয়া, হেমাটোলজি, অঙ্কোলজি, কিডনি, হার্ট-সহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, দেশের প্রায় ১০টি বড় হাসপাতালের সঙ্গে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আলোচনা চলছে। আগামী দিনে তাদের সহযোগিতায় এলাকার মানুষ যাতে সুলভে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও যৌথভাবে কাজ করার উপর জোর দিয়েছেন মুম্বইয়ের ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতাল ও মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শান্তনু সেন। তিনি বলেন, “শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে আমরা ক্লিনিকের ব্যবস্থা করছি। আমি নিজেও এখানে রোগী পরিষেবা দিতে আসব।”

শতাধিক শিশু-অভিভাবকের অংশগ্রহণ

সোমবার সকালে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে এবং কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি রিসার্চ সেন্টারের সহযোগিতায় একটি থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরে শতাধিক শিশু ও তাঁদের অভিভাবক অংশ নেন।

এর আগেও চলতি বছরের শুরুতে শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আয়োজিত বিশেষ থ্যালাসেমিয়া ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের HLA Tissue Typing-সহ একাধিক আধুনিক পরীক্ষা করা হয়।

দীর্ঘ চিকিৎসা মূল্যায়নের পর জানা যায়, ১৪ জন রোগীর ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ HLA জিন ম্যাচ পাওয়া গিয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। কারণ সফল বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল উপযুক্ত HLA ম্যাচিং।

১৪ জন রোগীর বিনামূল্যে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন

সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে মেজর থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ওই ১৪ জন রোগীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই অত্যাধুনিক চিকিৎসায় প্রায় ৭ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে। পুরো চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হবে উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানগুলির পক্ষ থেকে। ফলে রোগী বা তাঁর পরিবারকে চিকিৎসার জন্য এক টাকাও খরচ করতে হবে না।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ বীরভূম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই খবরে সংশোধন জানান

মতামত

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *