Tuesday, 27 October 2026 · বাংলা সংবাদBBARTA স্টাফ ডেস্ক ↗

আপনার এলাকার খবর, আপনার কণ্ঠে। খবর পাঠান, নির্বাচিত রিওয়ার্ড পান।

আপনিই রিপোর্টার ↗
স্থানীয় সংবাদ

এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি, ছাত্র-যুবদের আস্থা ফেরাতে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা

নয়াদিল্লি: ছাত্র-যুবদের আস্থা অর্জনে এবার নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চালু হতে চলেছে ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন দেশের একটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের সমস্যা, উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানার চেষ্টা করবেন তাঁরা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। সেই আন্দোলনের পর থেকেই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুবসমাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা গিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে প্রকাশ্য সভা এবং স্বাধীনতা দিবসের লালকেল্লার অনুষ্ঠানেও দেশের যুবশক্তির ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। পিটিআই সূত্রের খবর, ওই বৈঠকেই ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্রের দাবি, কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পড়ুয়াদের বিভিন্ন সমস্যা ও মতামত শোনার পাশাপাশি তাঁদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের চালু করা বিভিন্ন প্রকল্প ও সুযোগ-সুবিধার কথাও তুলে ধরা হবে।

কোন মন্ত্রী কোন দিন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, সেই পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়কে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে যোগাযোগ ও কর্মসূচির আয়োজনের বিষয়টিও তাঁরা দেখবেন বলে জানা গিয়েছে।

তবে শুধু কেন্দ্র নয়, ছাত্র-যুবদের কাছে পৌঁছতে সক্রিয় বিরোধী শিবিরও। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ৮০০টি ছোট ও মাঝারি শহরে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বুধবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

যন্তর মন্তরের ছাত্রবিক্ষোভের পর কংগ্রেসের কর্মসূচি নিয়েও দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ তরুণদের মধ্যে প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা শশী তারুরও মনে করেন, ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’-এর তুলনায় যন্তর মন্তরের অরাজনৈতিক ছাত্র-যুব জমায়েত বেশি সাড়া ফেলেছে। ফলে তরুণদের মধ্যে কংগ্রেসের কর্মসূচি কেন প্রত্যাশিত প্রভাব তৈরি করতে পারেনি, তা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকে আরও বেশি শহরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শহরগুলিতে ছাত্র-সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ফলে ছাত্র-যুবদের মন জয় করতে এখন কার্যত মুখোমুখি শাসক ও বিরোধী শিবির। একদিকে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা, অন্যদিকে শহর থেকে শহরে ছাত্র-সম্মেলন—আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জনের লড়াইয়ে কোন পক্ষ কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

এই খবরে সংশোধন জানান

মতামত

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *