B.BARTA , পুরুলিয়ায়-বাঁকুড়া : শ্রাবণ সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে দক্ষিণবঙ্গের দুই জেলা বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জুড়ে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী মনসা পুজো। গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এই প্রাণবন্ত উৎসবকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলা দুটির শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রান্তিক গ্রামগুলিতে ভক্তি ও উদ্দীপনার এক অনন্য কোলাহল লক্ষ করা গেছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!উৎসবের এই আনন্দকে দ্বিগুণ করে রাজ্য সরকারের তরফে আজ, মঙ্গলবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার সমস্ত রাজ্য সরকারি দপ্তরে পূর্ণ দিবস ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, সমস্ত সরকারি অফিস, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বোর্ড, কর্পোরেশন এবং সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি এই ছুটির আওতাভুক্ত থাকবে। অতীতে মনসা পুজো উপলক্ষে এই দুই জেলায় স্থানীয় বা আংশিক ছুটির চল থাকলেও, পূর্ণ দিবস সরকারি ছুটি এই প্রথম। ফলে জেলাবাসীর মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের কৃষিনির্ভর সমাজব্যবস্থায় লোকদেবী মনসার গুরুত্ব অপরিসীম। বিষধর সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা, পরিবারের কল্যাণ এবং কৃষিপ্রধান জীবনে সমৃদ্ধি কামনায় এই বর্ষাকালে ঘরে ঘরে দেবী মনসার আরাধনা করা হয়। পুরুলিয়ার গ্রামে গ্রামে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী মণ্ডপ, বসেছে গ্রামীণ মেলা। মণ্ডপে মণ্ডপে স্থান পেয়েছে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের হাতে তৈরি দেবীর প্রতিমা।
মনসা পুজোকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে লোকসংস্কৃতির নানা রূপও নতুন প্রাণ ফিরে পায়। বিভিন্ন গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে পদ্মাপুরাণ গান, লোকযাত্রা এবং বিশেষ ঝুমুর গানের আসর। ঐতিহ্যবাহী ছৌ নৃত্যের জেলা পুরুলিয়ার একাধিক মণ্ডপ প্রাঙ্গণে আজ রাতভর ছৌ নাচের আসর বসতে চলেছে।
পাবলিক ছুটির কারণে আজ দিনভর মেলা ও মণ্ডপগুলিতে অতিরিক্ত ভিড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও যানজট সামলাতে প্রস্তুত জেলা প্রশাসন। বিশেষ করে নিরঞ্জনের দিনগুলিতে নদী ও জলাশয়গুলির ঘাটে অতিরিক্ত পুলিশ বল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন রাখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।


মতামত